Connect with us

কম্পিউটার বিক্রির নামে ফাঁদ ! !

Case Studies

কম্পিউটার বিক্রির নামে ফাঁদ ! !

বাংলাদেশে কম্পিউটার মার্কেট এখন অনেক ফুলে ফেপে উঠেছে আর দাম কমার কারনে এবং সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির খাতকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই স্বপ্ন আরো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে যদি কিছু কিছু কম্পিউটার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অতি মুনাফার আশায় মানুষ না ঠকায়। রাজধানী ঢাকায় অনেক কম্পিটিশন এবং বিশাল কম্পিউটার সিটি থাকার কারনে মানুষ বুঝে শুনে দরদাম করে ভাল প্রোডাক্টটাই কিনতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যান্য শহরগুলোতে এধরনের সুবিধা থাকার কারনে এক শ্রেনীর কম্পিউটার বিক্রেতাদের কাছে কিছু সহজ সরল গ্রাহক প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন নানা ভাবে। কখনও খারাপ পন্য বা পার্টস, আবার কখনও অতিরিক্ত দাম, অনেক সময় আসল মুল্যের দ্বিগুণ, বিক্রোয়ত্তর সেবা, ওয়ারেন্টি, রিপেয়ার আবার অনেক সময় দিনে দুপুরে ডাকাতি করার মত দাম রেখে দিয়ে গ্রাহকদের ঠকাচ্ছে।

চট্টগ্রামের কথায় ধরা যাক। চট্টগ্রামে একটি বেশ পুরোনো কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান আছে যাকে বেশ বড় প্রতিষ্ঠানই বলা চলে, অন্তত চট্টগ্রামের মার্কেট বিবেচনা করে। প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা বলছি না এখানে কারণ কারো ডিফেইমিং করার কোন ইচ্ছা আমাদের নেই। আমাদের উদ্দেশ্য গ্রাহকদের সতর্ক করা কিন্তু আপ্নারা নিজেরাই বুঝে যাবেন কাদের উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের ভিক্টিম এখন অনেক আর ঠিক একারনেই আমাদের নজরে এসেছে। যাই হোক, উক্ত কম্পিউটার প্রতিষ্ঠানের দুটো শাখা যার একটি চট্টগ্রামের চৌমুহনী এবং আরেকটি জিএসই এর মোড়ে। যদিও একই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে কিন্তু প্রতিষ্ঠানের দুটি শাখা নিজেরা নিজেদের মধ্যেই দন্দে লেগে থাকে। এবং সেই দন্দের ভোগান্তিও পোহাতে হয় নাকি গ্রাহকদের। দুই শাখায় দাম দুরকম এবং অনেক সময় আকাশ পাতাল তফাত। আর মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে।

প্রতিষ্ঠানটির মানুষ ঠকানোর অনেক উপায়ের মধ্যে একটি উপায় হলো অতিরিক্ত দাম। সাধারনত একটি দোকান থেকে একটি সম্পূর্ন কম্পিউটার কিনলে পুরো কম্পিউটারের উপর একটা লাভ রাখা হয় বা অনেকেই এটি করে। যদি আপনি পুরো সিস্টেম একসাথে কেনেন যেমন মাদারবোর্ড, র‍্যাম, মনিটর, প্রসেসর, ইউপিএস ইত্যাদি। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত প্রতিটি আলাদা আলাদা পার্টসের উপর লাভ রাখে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায়। অর্থাৎ আপনার পুরো সিস্টেমের দাম যদি ১০০ টাকা হয় থাকে, তাহলে ধরে নিলাম লাভ সহ ১১৫ টাকায় আপনার কাছে বিক্রি করা হলো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি আলাদা কম্পোনেন্টের উপর আলাদা আলাদা করে প্রফিট মার্জিন নির্ধারন করে এবং অনেক সময় মার্কেট প্রাইসের চেয়েও অনেক বেশী। যেমন মনিটর এর উপর আলাদা প্রফিট, প্রসেসরের উপর আলাদা প্রফিট, র‍্যামের উপর আলাদা প্রফিট। এভাবে দাম নির্ধারন করে এক সময় মোট কম্পিউটারের দাম আকাশের চূড়ায় পৌছায়। আর নতুন পার্টসের বদলে পুরনো পার্টস ঢুকিয়ে দেয়া তো আছেই। কারণ কজন গ্রাহক জানেন কম্পিউটারের ভেতরে আসলে কি  প্রোডাক্ট দিয়েছে। কেসিং খুললেই তো ওয়ারেন্টি শেষ! আর তাছাড়া বেশীরভাগ গ্রাহক হয় নতুন কম্পিটার ক্রেতা অথবা খুব বেশী এক্সপার্ট না। যে কারনে কম্পিউটার বিক্রিতে মানুষ ঠকানো খুবই সোজা। আবার অনেক সময় তাঁদের বেশী দামে কেনার কারণ হিসেবে তারা দেখায় “চট্টগ্রামে প্রোডাক্ট নেই, তাই দাম বেশী বা মার্কেটে এখন নেই, ঢাকা থেকে আনতে হবে, খরচ বেশী পড়বে”। আর সেই খরচ বেশী পড়া মানে একেবারে দ্বিগুণ। প্রতিষ্ঠানের কিছু ধুরন্ধর সেলস ম্যান আছেন যারা আবার নিজেদের বড় বড় নেতা মনে করেন এবং মানুষ ঠকানোকে তাঁদের অধিকার বলেও দাবী করেন।

এরপর আসা যাক বিক্রোয়ত্তর সেবায়। প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটার কেনার সময় গ্রাহকদের নানা রকম গ্যারান্টি, ওয়ারেন্টি এবং আফটার সেলস সার্ভিস দেয়ার কথা বলে আর কম্পিউটার কেনা হয়ে গেলে তাঁদের আর চেনাই যায় না। না আছে কোন গ্যারান্টি আর ওয়ারেন্টি। মাসের পর মাস গ্রাহকরা অপেক্ষা করে বসে থাকেন তাঁদের নতুন কম্পিউটার কবে ঠিক হবে। প্রতিবাদ করলে তারা আবার গ্রাহকদের ভয়ভীতিও প্রদর্শন করেন। আবার কোন ভাগ্যক্রমে যদি ওয়ারেন্টি পেয়েও যান বা সেবা, তাহলেও দেখবেন বিধি বাম অর্থাৎ দেখা যায় রিপ্যেয়ার হয়ে এসেছে ঠিকই কিন্তু ভেতরে জিনিষ পত্র বদলে গেছে। এমনও হতে পারে আপনার ভাল নতুন পার্টসগুলোর বদলে পুরোনো পার্টস ভরে দেয়া হয়েছে আর ওয়ারেন্টি বা রিপ্লেসমেন্ট প্রোডাক্ট পুরোনো একটা লাগিয়ে দিয়েছে যা আপনার ওয়ারেন্টি পিরিয়ডের মধেই পড়ে।

যদি আপনি এই প্রতিষ্ঠান থেকে দামী কোন কম্পিউটার পন্য কিনেন সেক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি সেবা পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতে হবে। আপনাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে খুব দামী কম্পোনেন্ট হয়তো ঠিক কেনাবে, কিন্তু পরবর্তীতে সেই পার্টসের কোন সার্ভিস, ওয়ারেন্টি কিছুই পাবেন না। অজুহাত থাকবে “মার্কেটে নেই”।

তাছাড়াও ভুয়া মার্কেট ক্রাইসিস দেখিয়ে নতুন কম্পিউটার কেনার সময় অতিরিক্ত দাম রাখাটা তাঁদের নিজেদের অধিকার বলেই মনে করেন। আর প্রতিষ্ঠানটি অনেক দিন ধরেই চট্টগ্রামে ব্যবসা করার কারনে এখন তারা গ্রাহকদের ব্যাপারে থোড়াই কেয়ার করেন। কোন রকমে বিক্রি করতে পারলেই হলো। পরেরটা পরে দেখা যাবে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম – কাউন্টারে দা নিয়ে বসে থাকে ভেড়া জবাই করার জন্য। এভাবে প্রতিনিয়ত কত মানুষ যে প্রতারিত হচ্ছে।

অনেকেই অনেক দিন ধরে সঞ্চয় করে একটা কম্পিউটার কিনেন শখ করে কারণ আজকাল কম্পিউটার থাকাটা আবশ্যক। চট্টগ্রামে মার্কেট ছোট হবার কারনে এই প্রতিষ্ঠানটি রীতিমত যা খুশী তা করে। আমরা আমাদের ফেসবুক পেজে একটা স্ট্যাটাস পোস্ট করেছিলাম সবার কাছে একটা প্রশ্ন করে “চট্টগ্রামে সবচেয়ে বাজে কম্পিউটার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কোনটি” এবং কমেন্ট দেখতে গিয়ে আমরা হতবাক! কমেন্টে বেশীরভাগ নাম এসেছে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির! আমরা কিন্তু কারো নাম মেনশন করে দেই নেই। কিন্তু কথায় বলে, কয়লাকে যতই ঘষা হোক না কেন, কয়লা সবসময় কালো হয়ে থাকবে। আমাদের ইনবক্সেও কিছু মানুষ আমাদের অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্টানটির ব্যাপারে কারণ তারা ভুক্তভোগী। পরে দেখলাম আমাদের চেনা জানার মধ্যেও অনেকেই আছেন এই প্রতিষ্ঠানটির ভিক্টিম।

এতক্ষনে হয়তো আপনারা বুঝে গেছেন আমরা কোন প্রতিষ্ঠানের কথা বলছি। বিশেষ করে যারা চট্টগ্রামে থাকেন তারা বুঝে গেছেন। যদি আপনিও একজন ভিক্টিম হয়ে থাকেন, তাহলে নীচে কমেন্টে জানাতে পারেন উক্ত প্রতিষ্ঠান আপনাকে কিভাবে ভিক্টিম বানিয়েছে অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান আপনাদের প্রতারিত করেছে নাকি। যদি দেখি ভুক্তভোগীর সংখ্যা অনেক বেশী, তাহলে আমরা এটা নিয়ে অনবরত পোস্ট দিতে থাকব যতক্ষন না পর্যন্ত সব মানুষ সতর্ক হয়ে যায়।

আশা করি নতুন বছরে সব ধরনের প্রতারনা বন্ধ হবে। ভাল থাকুন।

Comments

comments

More in Case Studies

Advertisement

Popular Now

Advertisement

Latest Tutorials

To Top