Connect with us

কম্পিউটার কিনতে গিয়ে প্রতারিত!

Case Studies

কম্পিউটার কিনতে গিয়ে প্রতারিত!

আজকাল কম্পিউটার কিনতে গিয়ে অন্যেই প্রতারিত হচ্ছেন। আসলে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে কতিপয় কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের প্রতারণা। বিশেষ করে যারা নতুন কম্পিউটার কিনতে যান তারাই সবচেয়ে বেশী প্রতারিত হচ্ছেন। আর চট্টগ্রামে এ ধরনের কম্পিউটার প্রতারকদের রোল মডেল “কম্পিউটার ভিলেজ”। এদের কাছে প্রতারিত হয়েছে অসংখ্য কম্পিউটার ক্রেতা। এমনকি ছোট বড় নানা প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের সাথে এরকম একটি প্রতারণা করতে গিয়ে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।

নতুন কম্পিউটারের কেসিং এর ভেতরে পুরনো পার্টস, কম্পিউটার সার্ভিসে দিলে পার্টস গায়েব হয়ে যাওয়া, আফটার সেলস সার্ভিসের জন্য আলাদা টাকা চাওয়া, এক টাকার পার্টস ১০ টাকায় বিক্রি করা, অদ্ভুত আজব কাল্পনিক বিলিং করে ক্রেতাদের হয়রানি করা, প্রতিবাদ করলে নিজেদের মাস্তান পাঠানো হতে শুরু করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। প্রথমদিকে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট শুধু নিজেদের ভিক্টিম মনে করলেও কয়েকটি ফেসবুক পোস্টে অন্যান্য ভিক্টিম আছে কিনা তা দেখতে গিয়ে আমাদের তো চক্ষু চড়ক গাছ। তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের চৌমুহনী শাখাতে। উল্লেখ্য, কম্পিউটার ভিলেজের দুটি শাখা চট্টগ্রামে। একটি চট্টগ্রামের চৌমুহনীতে আরেকটি জিইশি মোড়ে এবং এক শাখার সাথে আরেক শাখার সাপে – নেউলে সম্পর্ক।

অন্য আর কেউ প্রতারিত হয়েছে কিনা তা খুজে বের করতে গিয়ে পাওয়া গেছে অনেক গ্রাহক যারা কম্পিউটার কিনে প্রতারিত হয়েছেন কম্পিউটার ভিলেজ নামক এই প্রতিষ্ঠান থেকে। তাদের বেশীরভাগই অভিযোগ করেছেন নীচের জিনিষ গুলো –

  • নতুন কম্পিউটারের কেসিং এর ভেতরে পুরনো পার্ট ঢুকিয়ে দেয়া।
  • রিফারবিশ প্রোডাক্ট-কে নতুন প্রোডাক্ট বলে চালিয়ে দেয়া।
  • যখন অভযোগ করা হয় তখন এসব আমলে না নিয়ে উল্টো ক্রেতাদের হুমকি ধামকি দেয়া।
  • ১ টাকার জিনিষ ১০ টাকায় অর্থাৎ, বাজারে প্রোডাক্ট নেই বলে অজুহাতে সস্তার জিনিষ অনেক দামে বিক্রি করা।
  • ট্যাক্স -ভ্যাটের হিসেব ঠিক মত না দেয়া।
  • কম্পিউটার সার্ভিসিং করতে দিলে উল্টো ফি চাওয়া – যেটাকে আমরা আফটার সেলস সার্ভিস বা বিক্রোয়ত্তর সেবা বলে থাকি।
  • আবার ওয়ারেন্টিতে দিলে উল্টো কম্পিউটারের ভেতর অন্যান্য পার্টসগুলো বদলে পুরনো পার্টস দেয়া।
  • ক্রেতারা অভিযোগ করলে তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা।

এমনকি বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের সাথেও তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশেষ কিছু প্রজেক্টের জন্য বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট বেশ কিছু হাই-পারম্যানশ কম্পিউটার কিনেছিল এই শপ থেকে। আর তার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বেশ বড় ধরনের প্রতারণা করেছে। শুধু মাত্র বিলিং প্রতারণা করেছে ২ লক্ষ টাকার উপরে। অর্থাৎ বেশি বিলিং করেছে। তার উপর যেসব কম্পিউটার সাপ্লাই করেছিল তার বেশীরভাগ পার্টসই হয় পুরনো অথবা ডিফেক্টিব। যেমন অত্যাধুনিক 4K মনিটর যা আসলে আগের ব্যবহার করা ছিল এমনকি ডিসপ্লে তার দাগও ছিল অথবা হাই-পারফরম্যান্স মাদারবোর্ড যেখানে ইন্টারনাল বেশ কয়েকটি পোর্ট আগের জ্বলে যাওয়া অথবা ৫৫ হাজার টাকা দামের গ্রাফিক্স কার্ডের ভ্যালু ৭৫ হাজার টাকায় করা তাও অগোচরে। কিন্তু কেনার সময় তা বলেনি। ফাইনাল বিলিং এ দাম বদলে দেয়া। উদ্ভট সব বিলিং আইটেম ক্রিয়েট করে উল্টো নাজেহাল করা। তাদের এসব ব্যাপারে কমপ্লেইন করা হলে উল্টো তারা হুমকির আশ্রয় নিয়েছিল। তার কিছুদিন পরে তাদেরই “মিজান” নামের একজন সেলসম্যান যেই এই মূল প্রতারণার সবকিছু করেছিল, কয়েকজন নিয়ে বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের অফিসে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের অফিসে সবসময় লোকজন থাকায় তারা আর সুবিধা করতে পারে নি।

এ নিয়ে অচিরেই আমরা একটি ভিডিও প্রকাশ করব আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে – একটি অনুসন্ধানমূলক ভিডিও। ইতিমধ্যে অনেক প্রতারিত গ্রাহকই রাজি হয়েছেন আমাদের ক্যামেরার সামনে এসে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে। আশা করি ভিডিওটি দেখে নিবেন।

এগুলো তো ছিল শুধু একটি। ফেসবুকে যখন অন্যান্য ভিক্টিমদের তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানতে যাওয়া হয়, তাদের অভিযোগুলো আসলেই অনেক কষ্টের। অনেক দিন টাকা জমিয়ে জীবনে প্রথম শখ করে কম্পিউটার কিনতে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন এদের কাছে। স্ক্রিনশট গুলো আমরা এই পোস্টে জুড়ে দিচ্ছি।

এই মুহুর্তে আমরা কল-আউট করছি এরকম আরও কত ভিক্টিম আছে কম্পিউটার ভিলেজ নামক প্রতিষ্ঠানের। সাধারণ গ্রাহকদের সার্থ আসলে সাধারণদেরই রক্ষা করতে হবে। ব্যবসার নামে অধিক মুনাফাধারী এসব চোর-ডাকাতদের থামানোর সময় আসছে। আশা করি এসব বিষয় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নজরে আসবে এবং অনুরূপ ব্যবস্থা নিবেন তারা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সত্য করতে হলে এধরনের প্রতারকদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে যেভাবেই হোক। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, প্রশাসন, সরকার এবং নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো এধরনের প্রতারণা বন্ধ করার জন্য এগিয়ে আসবেন।

Comments

comments

Continue Reading
Advertisement
You may also like...
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in Case Studies

Advertisement

Popular Now

Advertisement

Latest Tutorials

To Top